Tuesday, April 16, 2013

বৈসাবি : বাঙালির এক ‘খিচুড়ি’ প্রত্যয়

[bdnews24.com, ১৫/০৪/২০১৩]
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়ি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে নববর্ষ বরণের যে ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি দীর্ঘদিন থেকে প্রচলিত আছে তা ‘বৈসাবি’ নামে সমাজে জারি আছে। দেশের ছাপা এবং দৃশ্য (ইলেকট্রনিক) মাধ্যমও সে মোতাবেক বিষয়টিকে আংশিক নয়, সম্পূর্ণ রঙিনভাবে রাষ্ট্র করেছে। ফলে, পাহাড়ি আদিবাসীদের বর্ষবরণের সংস্কৃতি ‘বৈসাবি উৎসব’ নামেই বাজার পেয়েছে। কিন্তু ‘বৈসাবি’ নামে পাহাড়ি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোনো ধরনের উৎসবই নেই, নববর্ষ বরণ তো দূরের কথা। বৈসাবিকে পাহাড়ের সকল আদিবাসীদের নববর্ষ বরণের উৎসব নামে চালানো হলেও, এটা বাঙালিদের দেওয়া একটা ‘খিচুড়ি’র নাম!

কেননা, রাষ্ট্র কর্তৃক দলিলকৃত জনতাত্ত্বিক জরিপ অনুযায়ী স্বীকৃত ১১টি, কারও কারও মতে ১৩টি আদিবাসী জনগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করে। এদের কোনোটিরই বর্ষবরণ উৎসবের নাম ‘বৈসাবি’ নয়। চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যারা পুরোনো বছর বিদায় ও নতুন বছর বরণ করবার এ-উৎসবকে বলে বিজু উৎসব, মারমারা বলে সাংগ্রাই, ত্রিপুরারা বলে বৈসুক বা বৈসু, খুমি ও ম্রোরা একে বলে চাংক্রাই, খেয়াং ও লুসাইরা বলে শাংগ্রাই। কিন্তু ‘বৈসাবি’ বলে কোনো উৎসবের কথা পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক উৎসবের ইতিহাসে পাওয়া যাবে না।

এটা মূলত বাঙালির ‘ইমপোজিশন’ (চাপিয়ে দেওয়া তকমা) যা কোনোভাবেই পাহাড়ের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে লালিত পুরোনো বর্ষবিদায় ও নববর্ষ বরণের সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না। অধিকন্তু, বাঙালির আবিষ্কার করা এ খিচুড়ির মধ্যে রয়েছে একধরনের আধিপত্যের রাজনীতি, পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর নিজেদের মধ্যকার অসম ক্ষমতার সম্পর্কের উপস্থাপনা এবং জনতাত্ত্বিক সংখ্যাগুরুত্ব বনাম সংখ্যালঘুত্বের বাঙালি-সৃষ্ট সীমারেখার নিষ্ঠুর ক্যাটেগরাইজেশন (বর্গীকরণ)।

তাই, বৈসাবি-বৈসাবি করে উল্লাস করবার মধ্য দিয়ে, সংবাদ-মাধ্যমের মেধাহীন সম্প্রচারের ভেতর দিয়ে পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে একদিকে যেমন খণ্ডিত ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে; অন্যদিকে, এ উপস্থাপনার ভেতর দিয়ে পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যকার অদৃশ্য ‘এক্সক্লোশন’ (বাদকরণ) এবং ‘ইনক্লোশনের’ (আত্মীকরণ) রাজনীতিকে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। ফলে, এ জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে লালিত বর্ষবরণের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক উৎসবকে ‘বৈসাবি’ নাম দিয়ে ফলাও করে রাষ্ট্র করা হচ্ছে। বাঙালি শহুরে নাগরিক মধ্যবিত্তের বিনোদনের লিষ্টে কেবল কিছু নতুন উপাত্ত সংযোজিত হচ্ছে; কিন্তু আখেরে পাহাড়ি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী কারও কোনো লাভ হচ্ছে না। বরং ক্ষতির তলানি ক্রমান্বয়ে অতল হয়ে উঠছে।

এদেশের সংবাদপত্রে এবং প্রচার মাধ্যমে বাঙালি-সৃষ্ট খিচুড়ি বৈসাবি যেভাবে প্রচারিত হয়, সেটা বেশ রসালো এবং চমকপ্রদ। যেমন ‘পাহাড়ের বৈসাবি উৎসব শুরু’, ‘ফুল ভাসিয়ে পাহাড়ে বৈসাবি উৎসব শুরু’, ‘বৈসাবির রঙে সেজেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম’, ‘পাহাড়ে বৈসাবি উৎসবে মাতোয়ারা’, ‘বৈসাবি উৎসবে ভাসছে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা’, ‘তিন পার্বত্য জেলার বৈসাবি উৎসব শুরু’ প্রভৃতি।

এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, পাহাড়ি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনে ‘বৈসাবি’ বলে কোনো উৎসব না-থাকলে সব জায়গায় ‘বৈসাবি উৎসব’ লিখে এটাকে রাষ্ট্র করা হয়। যুক্তি হিসেবে দাঁড় করানো হয়, ত্রিপুরাদের বৈসুক বা বৈসু উৎসবের আদ্যক্ষর ‘বৈ’, মারমাদের সাংগ্রাই উৎসবের ‘সা’ এবং চাকমাদের বিজু উৎসবের ‘বি’ নিয়ে এ নামকরণ করা হয়।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, পাহাড়ের আরও অন্যান্য যে আদিবাসী জনগোষ্ঠী আছে তারা কি নববর্ষ বরণ উৎসব করে না? খুমি, ম্রো, খেয়াং, লুসাই, পাঙখোয়া, চাক, বম এবং তঞ্চঙ্গ্যা জাতিগোষ্ঠীর কি কোনো স্বতন্ত্র নববর্ষ উৎযাপনের রীতি-রেওয়াজ-সংস্কৃতি নেই? অবশ্যই আছে; কিন্তু সেটা পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্যকার যে জনতাত্ত্বিক কম্পোজিশন বা বিন্যাস এবং সেখানে পাহাড়ি সংখ্যাগুরুত্বের যে আধিপত্য, সেই অসম-সম্পর্কের ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামোয় অন্যান্য পাহাড়ি সংখ্যালঘু আদিবাসী জনগোষ্ঠী আপনা-আপনিই বাদ পড়ে যায়।

তাছাড়া, শহরের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান যোগাযোগ, শিক্ষার ক্রম-প্রসার, পেশাজীবী শ্রেণির বিকাশ, স্বচ্ছল অর্থনৈতিক-অবস্থা, আঞ্চলিক ও জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে যোগাযোগের মাত্রা, প্রচলিত উন্নয়ন-ডিসকোর্সের কাঠামোয় নিজেদের অবস্থান এবং নিজের কথা নিজের মতো করে বলবার ক্ষমতা কিংবা অক্ষমতার মাপকাঠিতে চাকমা, মারমা এবং ত্রিপুরার তুলনায় পিছিয়ে আছে অন্য পাহাড়ি আদিবাসীরা। এই তথাকথিত ‘বৈসাবি’ উৎসবের ‘বৈসাবি’ শব্দবন্ধে পিছিয়া পড়া জেনগোষ্ঠী তাই আপনা-আপনিই মাইনাস হয়ে যায়।

কিন্তু এ-মাইনাস ফর্মূলা (বাদবাদের সূত্র) যতটা না পাহাড়ের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিজস্ব, ততোধিক বাঙালিদের চাপিয়ে দেওয়া রাজনৈতিক কূটনীতি, যাকে একাডেমিক পরিভাষায় বলা হয় ‘পলিটিক্যাল ইম্পেজিশন’।

কীভাবে নতুন বর্ষ বরণ করা হবে, পুরোনো বর্ষকে বিদায় জানানো হবে এবং নতুন বর্ষের কাছে তাদের চাওয়া-চাহিদা এবং আকাক্ষাকে প্রকাশ করবে– পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর প্রত্যেকেরই এর নিজস্ব ধরন ও রীতি রয়েছে। সে মোতাবেক তারা সেটা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে। নিজ নিজ সাংস্কৃতিক ঘরানায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন বর্ষকে উৎযাপন করবার স্বতন্ত্র এই রূপ ও সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত আছে।

সেটা যেহেতু একান্তই তাদের নিজেদের মধ্যে নিজেদের স্বতন্ত্র ব্যবস্থাপনায় পালিত হত সেহেতু সেটার মধ্যে সৌন্দর্য, মাদকতা এবং স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনুরণন ছিল। এমন কী বাঙালি নববর্ষ উদযাপনের বহু আগে থেকেই একান্ত নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঘরানায় পাহাড়িরা বর্ষবরণের উৎসব করে এসেছে।

প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় এখানে উল্লেখ্য যে, মোঘল সম্রাট আকবরের সময়কাল থেকে বাংলা বর্ষপঞ্জির যাত্রা শুরু; এবং তখন থেকেই বাংলা নববর্ষ পালনের রেওয়াজ চালু হয়। মূলত ভারতবর্ষে মোঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর থেকে হিজরি সন অনুসরণ করে কৃষি-খাজনা আদায়ের সংকট থেকে বাংলা বর্ষপঞ্জি আবিষ্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কেননা হিজরি সন চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় কৃষি-ফসলের সঙ্গে তার অসামঞ্জস্য দেখা দেয়। সে অসামাঞ্জস্য দূর করার জন্য সম্রাটের আদেশে তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ফতেহউল্লাহ সিরাজী সৌর সন এবং আরবী হিজরি সনের উপর ভিত্তি করে একটি ‘ফসলী সন’ হিসাবে বাংলা সনের নিয়ম নির্মাণ করেন।

১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১০ মার্চ থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হলেও, এ গণনা পদ্ধতি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় (৫ নভেম্বর, ১৫৫৬) থেকে। মূলত সম্রাট আকবরের আমল থেকেই বাংলা নববর্ষ পালনের রীতি শুরু হয় কিন্তু সেটা ছিল প্রধানত হালখাতা খোলার উৎসব যা সময়ের পরিক্রমায় আজকের এ বিপুল রূপ ধারণ করেছে।

আর পাহাড়ি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বর্ষবরণের রীতি-রেওয়াজ সর্ম্পূণ ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে গড়ে উঠে। পাহাড়ি জীবন মূলত ঋতুকেন্দ্রিক, তাই ঋতুর আগমন এবং বিদায় এ মানুষদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুরোনো বছরের বিদায় এবং নতুন বছরের আগমন এবং সে বিদায়-বরণ কেন্দ্র করে নানা ধরনের রিচুয়্যাল বা রীতি-নীতি পাহাড়ি জীবন-ব্যবস্থার অংশ। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ জীবন-ভাবনা, আনন্দ, নতুনকে বরণের আন্তরিক আয়োজন ও সাংস্কৃতিক উৎসব।

কিন্তু বাঙালির নজর পড়ার পর থেকে পাহাড়ি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণের রূপ, রস, গন্ধ, উপস্থাপনা এবং ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবতন ঘটেছে। এখন উৎসবের চেয়ে আয়োজন বেশি, আয়োজনের চেয়ে দেখানোপনা বেশি, আর দেখানোপনার চেয়ে ভোগ-প্রবণতা বেশি। বাংলাদেশের মিড়িয়ার বেপরোয়া বিকাশের সূত্র ধরে আদিবাসীদের বর্ষবরণ উৎসব কেবল এখন আর তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক মাধুর্যে পালন করবার কোনো ঋতুকেন্দ্রিক সংস্কৃতি নয়, এটা এখন বাঙালি শহুরে নাগরিক মধ্যবিত্তের বিনোদনের মাধ্যমও বটে!

শহরের নাগরিক মধ্যবিত্তের মৌসুমি বাঙলা নববর্ষ বরণের সামগ্রিক আয়োজনে পাহাড়ের নববর্ষ বরণের রঙিন উপস্থাপনা তাদের মধ্যে একধরনের আদিমতার গন্ধ সরবরাহ করে। আর এ সরবরাহের মধ্যে একধরনের ‘বুনো’ আস্বাদ পাওয়া যায় বলে মিড়িয়া সেটা বেশ আয়োজন করে প্রচার করে। ফলে, আদিবাসীদের বর্ষবরণের যে সাংস্কৃতিক নিজস্বতা, সেটা আর অটুট নেই। নগরকেন্দ্রিক কর্পোরেট সংস্কৃতির বিকাশের বাহন হিসেবে বাংলাদেশের মিড়িয়া এসব অনুষ্ঠানকে ‘বৈসাবি’ হিসেবে বেশুমার প্রচার করেই চলেছে। বাজার সে মোতাবেক জারি রাখবার বিষয়টি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছে।

এটা সত্য যে, বাঙালি নববর্ষ উৎযাপনের পরিধি, ব্যাপকতা এবং উচ্ছ্বলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকতারও নানা রূপান্তর ঘটেছে। আগমণ ঘটেছে বেনিয়া-গোষ্ঠীর। সর্বগ্রাসী বেনিয়ারা দেশের ইতিহাস, ঐহিত্যকেও ব্যবসার পণ্য বানাবে এটা খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়। শহুরে নাগরিক মধ্যবিত্তের ব্যস্ত জীবন-ব্যবস্থার ফাঁকে এক টুকরো বাঙালিপনার হাতছানি কিংবা মৌসুমি বাঙালি হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে চলছে নববর্ষ-কেন্দ্রিক ব্যাপক ব্যবসায়িক আয়োজন। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর দ্বারা প্রতিযোগিতামূরকভাবে নববর্ষের অনুষ্ঠানকে তাদের পণ্য প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা ব্যাপক হারে বাড়ছে। ছাপা এবং দৃশ্য মাধ্যমও সমান তালে পাল্লা দিয়ে নববর্ষের আবেগ এবং আয়োজনকে ধারণ করবার প্রতিযোগিতায় নামে।

ফলে, আবেগের চেয়ে আয়োজনের পাল্লাই ভারি হয়ে উঠে। পাহাড়ের বর্ষবরণও এ সর্বগ্রাসী থাবার বাইরে থাকেনি। বহুজাতিক কোম্পানি এখন পাহাড়ের বর্ষবরণের নানা অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক। বাঙালির নজর পড়া কিংবা মিড়িয়ার রসালো উপস্থাপনার পাশাপাশি, বেনিয়ার থাবার কারণেও পাহাড়ের বর্ষবরণের জৌলুস তার নিজস্বতা হারাচ্ছে।

তাছাড়া, পাহাড়ের বর্ষবরণের রীতি ও সংস্কৃতিকে বাঙালির নিজস্ব বর্ষবরণের সঙ্গে মিলিয়ে এবং মিশিয়ে ভাববার এবং উপস্থাপনা করবার প্রবণতা এবং অনুশীলনের মধ্য দিয়ে, এ জনগোষ্ঠীর সার্বজনীন বর্ষবরণ উৎসব খণ্ডিত ‘বৈসাবি’ রূপ ধারণ করেছে। সুতরাং কোনো কিছুই আজ পুঁজি আর পুঁজির থাবার বাইরে নেই।

এখানে মনে রাখা জরুরি যে, বাইরের চাপিয়ে দেওয়া কোনো ডিসকোর্সই নিরপরাধ কিংবা নিঃস্বার্থ নয়। তাছাড়া যাদের ওপর এ ডিসকোর্স চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তারা সেটাকে কীভাবে নিচ্ছে কিংবা এ-প্রক্রিয়ায় তাদের মনোভঙ্গি কী সেটা জানাও জরুরি। সাংস্কৃতিকভাবে ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক উৎসবকে নিজের মতো করে উপস্থাপন করা একধরনের রাজনৈতিক কূটিলতা। তেমনি এ জাতিগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র সংস্কৃতিকে রাষ্ট্রীয় ডিসকোর্সের ভেতর দিয়ে অন্যের বিনোদনের উপাত্ত হিসেবে বাজারে সেল করাও একধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা।

এ থেকে আমরা যত দ্রুত বের হয়ে যেতে পারব, তত পাহাড়ি আদিবাসী ও সমলের বাঙালি উভয়ের লাভ। কেননা, ভিন্ন সংস্কৃতিকে যথাযথ সম্মান ও সুরক্ষার মধ্যেই নিজের সংস্কৃতির মাহাত্ম্য নিহিত থাকে।

1 comment:

  1. স্যার, পুরাটা পড়লাম। এটাকে এক ধরনের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বলেই মনে হচ্ছে।

    ReplyDelete